মুঘলদের মহান বানানোর বামপন্থী ফর্মুলা
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে -->>
😠😠মুঘলদের মহান বানানোর বামপন্থী ফর্মুলা, যা মধ্যযুগের খুনি ধর্ষক বাদশাহদের মহান বানিয়ে দিয়েছে 👇
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
✍ বামপন্থী ইতিহাসকারেরা মুঘল শাসকদের ( বিশেষ করে আকবর,টিপু সুলতান, সিরাজ উদ্দৌলা ) এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যেন মুঘলদের আগে ভারত ভূমিতে মুঘলদের মতো মহান প্রজাহিতৈষী এবং অসাম্প্রদায়িক শাসকের জন্মই হয়নি ! বামপন্থী এইসব ইতিহাসকারেরা সমসাময়িক মূল তথ্যের ধারেকাছে না গিয়ে পূর্বাগ্রহ অনুযায়ী মনমর্জী ইতিহাস লিখে সত্য ইতিহাসকেই আউট করে দিয়েছে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য যেকোন প্রকারেই হোক মুঘলদের মহান দেখাতে হবে! আমরা যারা ইতিহাস বিশেষজ্ঞ নই তারাও জানি যে প্রত্যেক রাজা/বাদশাহদের ইতিহাসর দুটি দিক থাকে -- একটা দিক সুকর্ম এবং অপর দিক হচ্ছে তাদের ত্রুটি বা কুকর্ম বা drawbacks. । কিন্তু মধ্যযুগের সুলতান/বাদশাহদের এমনভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে মহান দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যাকে ইতিহাস না বলে গল্পকথা বা Story বলাই ভালো। কিন্তু ঐসব বাদশাহদের আত্মজীবনী এবং তাদের কোর্ট পোয়েটদের লেখা গ্রন্থে যে সকল তথ্য পাওয়া যায় তা পড়লে ঐসব সুলতান/বাদশাহদের মানুষ তো বলাই যাবে না, পশু বললেও পশুরাও লজ্জা পাবে।
✍✍ এই ধরনের মূল তথ্যের বাইরে এসে মনমর্জী ইতিহাস লেখা এবং তার পর প্রতিপক্ষের দ্বারা সমালোচনা থেকে নিজেদের বাঁচাতে এবং সেই সাথে নিজেদের দ্বারা লিখিত মনগড়া ইতিহাসকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসনীয় করে তুলতে এরা এক গতানুগতিক, কিন্তু অভিনব পন্থার আশ্রয় নিয়ে থাকে। সেই পন্থা হচ্ছে "Offense is the best defense" অর্থাৎ আত্মরক্ষার জন্য প্রথমেই আক্রমণ করে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে দেও, যাতে সে পাল্টা আক্রমণ করতে ভয় পায়। এই পন্থাকে অনুসরণ করে ঐসব বামপন্থী ইতিহাসকারেরা History র নামে Story লেখার শুরুতেই এরা অন্যান্য ঐতিহাসিকদেরকে বিজেপির লোক/আর এস এস এর দালাল/ নাগপুরে লেখা ইতিহাস/হিন্দুত্ববাদীদের লেখা ইতিহাস, ওসব নিরপেক্ষ নয়..... ইত্যাদি ইত্যাদি বলে আক্রমণ করে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে তাদের প্রতি ( যারা বামপন্থী ইতিহাসকার নয় তাদের প্রতি) এবং তাদের লেখা ইতিহাসের প্রতি একপ্রকার সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ফলে বামপন্থীদের লেখা পাতিহাঁস সাধারণ মানুষের কাছে ইতিহাস বলে মনে হয়। আর অন্যান্য ঐতিহাসিক যারা মূল তথ্যের উপর ভিত্তি করে ইতিহাসের সত্য ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করেন তাদের লেখা ইতিহাস সাধারণ অজ্ঞ মানুষের কাছে ভুল বা মিথ্যে বলে মনে হয়।
এই প্রসঙ্গে এক বামপন্থী ইতিহাসকারের বক্তব্য তুলে ধরছি বুঝতে সুবিধার জন্য 👇
😠😠 ফেব্রুয়ারি 2020 তে জন মিডিয়া ক্রমাঙ্ক 95 এ প্রকাশিত বামপন্থী ইতিহাসকার 'হরবংস মুখিয়ার' বক্তব্যের কিছু অংশ 👇
"".....অনেকদিন ধরেই ইতিহাসের কিছু সংস্করণ , প্রচার প্রসার ,বিশেষভাবে ও সুনিয়োজিতভাবে করা হচ্ছে । যেমন আর এস এস এর মতো কিছু সংগঠন করে চলেছে...... বর্তমানে এক প্রবৃত্তি দেখা যায় যে ইতিহাসকে তোড়মোড় অর্থাৎ বিকৃত করে প্রচার করার এক প্রবনতা বিজেপি এবং আর এস এস এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে.... এরা আকবরকে হিটলারের সাথে তুলনা করছে..... এরা না জানে আকবরের ইতিহাস আর না জানে হিটলারের ইতিহাস.... এরা মিথ্যা প্রচার করে যাচ্ছে যে আকবর নাকি তলোয়ারের ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ হিন্দুদের মুসলিম বানিয়েছিল.... '"।
বামপন্থী ইতিহাসকারেরা ইতিহাস বিষয়ে কিছু বলতে গেলে শুরুতেই এভাবে ভুমিকার আশ্রয় নেয় যাতে শ্রোতা বা পাঠকদের মধ্যে অন্যান্যদের লেখা ইতিহাসের প্রতি শুরুতেই একটা অবিশ্বাস/অশ্রদ্ধা তৈরি হয়। এরপর এইসব বামপন্থী ইতিহাসকারেরা অবলিলায় ইতিহাসের নামে মনগড়া কাল্পনিক Story বলে যায় বা লিখে যায়।
✍️✍️ আমি এখানে শুধু মাত্র আকবরের রাজত্বকালের কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করবো যা অকাট্য সত্যি। বামপন্থী ইতিহাসকার হরবংস মুখিয়া আকবরের সম্পর্কে কতটুকু জানেন বা সে সত্য ইতিহাসকে বিকৃত করে জনগণের সামনে ভূল ইতিহাস রিপ্রেজেন্টে করছে কিনা তা আপনারাই বিচার করবেন 👉👇
1) . ✍✍ স্বয়ং আকবরের জারি করা ফতেহনামা 👇
সাময়িক ভাবে আকবরের চিত্তৌরগড় বীজয়ের পর 1586 খৃষ্টাব্দে আকবর "ফতেহনামা-এ-চিত্তৌড়" জারি করেছিল। সেখানে যা লেখা আছে তা এই প্রকার- - -".... আল্লাহর খ্যাতি বৃদ্ধি হোক, আমাদের মুজাহিদিনরা অপবিত্র কাফেরদেরকে বিদ্যুতের মতো চমকানো ধারালো তলোয়ার দিয়ে হত্যা করেছে। আমাদের বহুমূল্যবান সময় ও শক্তি জিহাদে ব্যায় করেছি এবং আল্লাহর সাহায্যে কাফেরদের বস্তি, শহর, দূর্গ সব জয় করে নিয়েছি। আল্লাহ কাফেরদের বিনাশ করুন.... আমরা তাদের পুজাস্থল, মূর্তি সব ধ্বংস করে দিয়েছি...."।
1586 খৃষ্টাব্দের এই ফতেহনামা আকবরের সভায় বসে নিশ্চয়ই কোনো আর এস এস এর লোক বা বিজেপির দালাল লেখেনি।
2. ✍✍ আকবরের এক সেনাপতি তথা দরবারী ইতিহাসকার "বদাউনী"র লেখা " মুন্তখাব-উত-তবারীখ" থেকে তথ্য 👇
আকবরের দরবারী ইতিহাসকার তথা এক সেনাপতি ''আব্দুল কাদের বদাউনী'র" লেখা "মুন্তখাব-উত-তবারীখ" যা আকবরের রাজত্বকালের উল্লেখযোগ্য প্রামাণ্য দলিল। এই পুস্তকে লেখা ঘটনার কথা উল্লেখ করে ইংরেজ ঐতিহাসিক Vincent Arthur Smith বদায়ুনীর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন -->> """.... ......1576 খৃষ্টাব্দে যখন শাহী ফৌজ রাণাপ্রতাপের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল তখন আমিও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম এবং হিন্দুদের রক্তে আমার দাঁড়ি ভিজিয়ে আকবরের সামনে যাই। জিহাদের প্রতি আমার নিষ্ঠা ও ভাবনা দেখে আকবর এতটাই প্রসন্ন হয়েছিলেন যে সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে মুঠিভর্তি সোনার মোহর দিয়েছিলেন (Reference --- V. A. Smith. "Akbar the Great".Page -108.).
🤔এবার আপনারাই বলুন -- আকবরের সেনাপতি তথা সভাকবি বদাউনী এবং ঐতিহাসিক ভিন্সেন্ট স্মীথ কি আর এস এস বা বিজেপির লোক ছিল? তারা কি নাগপুরে আর এস এস এর অফিসে বসে ইতিহাস লিখেছে?
3. ✍✍ 20 বর্ষীয় আকবরের বিকৃত কামবাসনা পুরনে রাণী দুর্গাবতীর রাজ্য আক্রমণ 👇
20 বছর বয়সী আকবর তার যৌন লালসা পুরনের জন্য 38 বছর বয়সী বিধবা রাণী দুর্গাবতীর রাজ্য আক্রমণ করে। মহা পরাক্রমের সাথে যুদ্ধ করে রাণী দুর্গাবতী যখন বীজয়ের পথে তখন রাণীর প্রধান সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতার ফলে রাণী গুরুতর আহত হন। শেষে আকবরের সেনার হাতে বন্দি হওয়া থেকে বাঁচতে রাণী আত্মহত্যা করে । কিন্ত রাণীর নববিবাহিতা 16 বর্ষীয় পুত্রবধূ, রাণীর 17 বর্ষীয় বোন সহ অনেক কুমারী মেয়েকে আকবর বন্দী করে হারেমে নিক্ষেপ করে যৌনদাসী বানায়। যুদ্ধ শেষে 5000 মহিলা জহরব্রত করে আত্মহত্যা করে। ( সূত্র -- আইনী আকবরী, পৃষ্ঠা - 45. এবং V. Smith, Akbar the Great. P- 69)
🤔আপনারাই বলুন আইনি আকবরী কি আর এস এস (RSS) লিখেছে?
4. ✍✍ আকবরের হারেম 👇
এটা সর্বজন বিদিত যে আকবরের হারেমে সবসময় 5000 হিন্দু মেয়ে যৌনদাসী হয়ে থাকতে বাধ্য হতো। আকবরের সভাকবি বদায়ুঁনির লেখা থেকে জানা যায় আকবর তার গুপ্তচরদের মাধ্যমে কম বয়সী সুন্দরী বিধবা মহিলাদের ধরে এনে হারেমে বন্দী করে যৌনদাসী বানাতো । আকবর খুদারোজ উৎসব (প্রমোদ উৎসব) নামের এক ঘৃণ্য প্রথা চালু করেছিল। এই উৎসবের মূল বিষয় ছিল -- আকবরের নির্দেশে নির্দিষ্ট এলাকার কন্যার পিতারা তাদের কন্যাদের পূর্ব নির্ধারিত উৎসবের জায়গায় নিয়ে যেতে বাধ্য হতো এবং আকবরের সামনে তাদের নগ্ন হয়ে প্রদর্শন করতে হতো। যাদের শরীরের গঠন আকবরের পছন্দ হতো আকবরের নির্দেশে তাদের হারেমে বন্দী করা হতো। এই কথা আকবর পরোক্ষভাবে তার আত্মজীবনীতে স্বীকারও করেছে ( পৃষ্ঠা 43)।
🤔এবার আপনারাই বলুন আকবরের সভাকবি বদায়ুঁনি এবং স্বয়ং আকবর কি RSS বা বিজেপির লোক ছিল?
5. ✍✍ মহারাজা বিক্রমাদিত্য হিমু এবং তার পরিবারের সাথে আকবরের আচরণ 👇
হিমুর সাথে যুদ্ধের সময় হিমুর চোখে তীর লাগলে হিমু দেখতে না পাওয়ার সুযোগ নিয়ে আকবরের সেনা হিমুকে বন্দী করে আকবরের সামনে নিয়ে আসে। আকবর তাকে কাফের বলে তার গর্দান কেটে তার মস্তকহীন শরীর প্রাসাদের সামনে ঝুলিয়ে দেয়। হিমুর বৃদ্ধ বাবাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করার কারণে হত্যা করে। হিমুর স্ত্রীকে হারেমে বন্দী করে, তবে তিনি পালাতে সক্ষম হন। হিমুর সাথে যুদ্ধের পর আকবর ভয়াবহ নরসংহার চালিয়েছিল এবং নরমুণ্ড দিয়ে দিল্লির আশপাশে প্রায় 200 টি টাওয়ার বানিয়েছিল। Pitter Mundi নামক এক ইংরেজ ট্রাভেলর এই ঘটনার 70 বছর পর জাহাঙ্গীরের রাজসভায় এসেছিলেন এবং তিনি নিজহাতে ঐ সব নরমুণ্ডের তৈরি টাওয়ারের স্কেচ করেছিলেন। ( ""The History of India, as told by its own Historian "" -- Written by Elliott and J. Dowson,, part-VI. Page 55-56) .
🤔 আপনারাই বলুন Pitter Mundi এবং Elliott and J. Dowson কি আর এস এস এবং বিজেপির লোক ছিলেন ?
6. ✍✍ রাণা উদয় সিংহের সাথে যুদ্ধে নারকীয় হত্যালীলা 👇
মহারাজা উদয় সিংহ তাঁর দুই নাবালিকা কন্যাকে আকবরকে ভেট স্বরূপ দিতে অস্বীকার করলে আকবর চিতরগড় আক্রমণ করে। এই যুদ্ধে আকবর প্রায় ত্রিশ হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করে ( আবুল ফজলের লেখা উদ্ধৃত করে V. A. Smith. Akbar the Great. Page -90.) আবার এর পরেই V. A. Smith লিখেছেন মৃত সেনা ও সাধারণ নাগরিকদের গলার পৈতে আকবরের নির্দেশে একত্রিত করে দেখা গেছিল পৈতের ওজন হয়েছিল 74.5 মোন ( "The recorded amount was 74.5 mans of about right ounce each ".
V. A. Smith. ibid--91). এ তো গেলো পৈতের ওজন যা ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়রা ধারণ করে। ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় ছাড়া অন্যান্য জাতি, বাচ্চা ও মহিলাদের তো তো হিসাবই নেই।
R. C. Majumdaar এই সংখ্যা কে আশি হাজারেরও(80000) বেশি উল্লেখ করেছেন।
🤔 আপনারাই বলুন বিখ্যাত ইংরেজ ঐতিহাসিক Vincent Arthur Smith এবং R. C. Majumdaar কি আর এস এস বা বিজেপির লোক ছিলেন?
বয়স কালে আকবর চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে দিন-ই-ইলাহী নামের এক ধর্মমতের প্রবর্তন করে যার মূল ভিত্তি ছিল ইসলাম,, পরোক্ষভাবে তার রাজসভার প্রভাবশালী হিন্দুদের ইসলামে নিয়ে আসারই এক ছলনা ছিল । কিন্ত এক্ষেত্রেও তাকে মহান বানানো হয়েছে । ঠিক একই রকম ভাবে দক্ষিণের হিন্দু-সংহারকারী টিপু সুলতান, বঙ্গের সিরাউদ্দৌলা তিতুমীর ...এদের মহান বানানো হয়েছে।
🔯🔯 তথাকথিত ইতিহাসকারেরা নির্লজ্জভাবে খুনি, কামুক, চরিত্রহীন শাসকদের মহান প্রমাণ করতে মিথ্যা এবং কাল্পনিক তথ্য দিয়ে ইতিহাসকে বিকৃত করে প্রচার করতে সদা সচেষ্ট। তাদের এই অপচেষ্টাকে যাতে সবাই সত্য বলে মেনে নেয় এবং সত্যি ইতিহাসকে যাতে কেউ বিশ্বাস না করে তার জন্য এই বামপন্থী পাতিহাঁস লেখকেরা তাদের বিরোধী মতের তথা সত্য উদ্ঘাটনকারী ঐতিহাসিকদেরকে শুরুতেই RSS বা বিজেপির দালাল বলে আক্রমণ করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে দেয় যাতে সত্য ইতিহাসের প্রতি তাদের বিশ্বাস না হয়।
তবে Vincent Arthur Smith আকবরকে নিয়ে যে পুস্তকটি লিখেছেন তার টাইটেল ""Akber the Great... "" হলেও বাস্তবে উনি আকবরের কুকর্ম গুলো ভালোভাবেই তুলে ধরেছেন।

Comments
Post a Comment